|
 |
|
কোটামুক্ত বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প: সামপ্রতিক প্রবণতা ও চ্যালেঞ্জ
মোস্তাফিজুর
রহমান , দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ফাহমিদা খাতুন
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, তৌফিকুল ইসলাম খান
আশিক ইকবাল, তাজিন তাহসিনা, দেবযানী সেন গুপ্তা
সুহাস রঞ্জন দাস শিমন
প্রকাশকাল
ফেব্রুয়ারি ২০০৮
৩০০ টাকা
|
|
|
আশির দশকের শুরু
থেকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে রপ্তানিমুখী তৈরী
পোশাকখাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের
ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ আর রপ্তানি
আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে তৈরী পোশাক খাত থেকে। দেশের বিশাল
জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও আয়ের
সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার
উন্নয়ন ঘটাতে এই খাতটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে বিপুল
সংখ্যক মহিলাদের জন্য কর্মসংস'ানের ক্ষেত্র তৈরীর মাধ্যমে
তাদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক অবস্থার
ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে তৈরী পোশাক শিল্প অভূতপূর্ব ভূমিকা
রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ
করতে, এবং লেনদেন ভারসাম্যের উন্নয়নেও এ খাতের অবদান উল্লেখ
করার মতো। তাছাড়া এই খাতের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিতে নানা বহুমূখী
সংযোগ বৃদ্ধি করেছে। বিশেষত অগ্র ও পশ্চাদমুখী কর্মকাণ্ডের
সংযোগসমূহের মাধ্যমে অন্যান্য খাতেও ভূমিকা রেখে চলেছে।
তবে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটির পথচলা
সবসময়েই যে কুসুমাস্তীর্ণ ছিল তা নয়।
প্রতিযোগিতাময় আন্তর্জাতিক পরিবেশে
লড়াই করে টিকে থাকতে গিয়ে এই খাতটি বিভিন্ন ধরণের সমস্যার
সম্মুখীন হয়েছে। চীন ২০০১ সালে ডব্লিউটিও’র সদস্য হওয়ার পর এবং
বিশেষ করে কোটা ব্যবস্থা বিলোপের পর
পোশাক রপ্তানিতে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার মত স্বল্প মূল্যে পোশাক সরবরাহকারী
দেশগুলোও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছে। ২০০৫ সালে
মাল্টি ফাইবার অ্যারেঞ্জমেন্ট বা এমএফএ উঠে যাবার পর আন্তর্জাতিক
বস্ত্র ও পোশাক বাজারে বাংলাদেশ আরো বেশী প্রতিযোগিতার মুখোমুখী
হয়েছে। এর ফলে তৈরী পোশাকের মূল্য আরো কমে যাবার কারণে
উৎপাদনকারীর আয়ও কমে এসেছে। উন্নত উৎপাদন ব্যস্থা,
প্রযুক্তিগত বিকাশ এবং শ্রম নিয়োজনে পরিবর্তনের মাধ্যমে উৎপাদন
ব্যয় সীমিত রেখে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা বর্তমানে
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। উপরন্তু
২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং ২০০৯ সালের
জানুয়ারিতে আমেরিকার বাজারে চীনের সকল পোশাক উন্মুক্তভাবে
রপ্তানির সুযোগ তৈরী হবার ফলে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পখাত
একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে পারে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন-রে
অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধার সীমাবদ্ধতা ও শ্রমিক অসন্তোষ
এবং আন-র্জাতিক বাজারে পোশাক কারখানায় কম্প্লায়েন্স মেনে চলার
ব্যাপারটি জোরালোভাবে দেখার ফলে এ খাতটি বেশ চাপের মুখে রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের ব্যাপক ভূমিকার বিষয়টি
অনুধাবন করে এখাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতা সক্ষমতার জন্য
প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নে সহায়তার লক্ষ্যে সেন্টার ফর পলিসি
ডায়লগ (সিপিডি) দীর্ঘদিন ধরে এখাতের ওপর গবেষণা ও আলোচনা করে
চলেছে। বর্তমান বইটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ। বইটিতে পোশাক
শিল্প সংক্রান্ত সিপিডি’র গবেষণালব্ধ
ফলাফল, বিশ্লেষণ ও সুপারিশমালা এবং বিভিন্ন সময়ে সিপিডি আয়োজিত
নীতি সংলাপের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা
হয়েছে।
বইটিতে পোশাক শিল্পের চলমান উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা টেকসই কিনা
এবং উন্মুক্ত বিশ্ববাজার থেকে সৃষ্ট সুযোগ সদ্ব্যবহারের জন্য
পোশাক শিল্পের সক্ষমতা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে যেমন আলোচনা রয়েছে
তেমনি কোটা পরবর্তী সময়ে উৎপাদনশীলতা, মূলধন-ও শ্রম-উৎপাদনের
অনুপাতে পরিবর্তন, কর্মসংসস্থান, আয়,
জেন্ডার বৈষম্য, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কারখানার পরিবেশ ইত্যাদি
বিষয়ে পুংখানুপংখ বিশ্লেষণ রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে এই সংক্রান-
বিষয়গুলো সংক্ষিপ্ত আকারে পেশ করা হয়েছে।
বইটির দ্বিতীয় অধ্যায়ে কোটা পরবর্তী সময়ে তৈরী পোশাক শিল্পে কি
ধরণের প্রযুক্তিগত পূনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়ন ঘটেছে এবং তার ফলে
উৎপাদন বৃদ্ধি, পন্যের মানোন্নয়ন ও কর্মসংস'ানের ওপর কতখানি
প্রভাব পড়েছে সে সংক্রান- আলোচনা উপস্থাপন
করা হয়েছে। কারখানা পর্যায়ে প্রযুক্তিগত পুনর্গঠনের শুরু বেশ
আগে থেকেই হয়েছে এবং তা হয়েছে ২০০১ সালে চীনের বিশ্ব বাণিজ্য
সংস'ায় প্রবেশ এবং ২০০৫ সালে কোটা পরবর্তী প্রতিযোগিতার বিষয়টি
মাথায় রেখেই। কারখানা পর্যায়ের জরীপ এবং বিদ্যমান তথ্য
বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায় কারখানা মালিকগণ উন্নত প্রযুক্তির
মেশিন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, শ্রমিকদের ওপর নজরদারি
বৃদ্ধি এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করার মতো বিষয়গুলোতে পরিবর্তন
এনেছেন। কারখানাগুলো আরো স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহারের
দিকে ঝুঁকে পড়ছে। আধুনিক এসব প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন
আকারের কারখানায় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। তবে
কর্মসংস'ানের ওপর এর তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আরো বেশী শ্রমিক প্রয়োজন হচ্ছে, যার
অধিকাংশই মহিলা।
তৃতীয় অধ্যায়ে উপস্থাপিত জেন্ডার ও
বাণিজ্য উদারীকরণ বিষয়ক প্রবন্ধটিতে কারখানা ও শ্রমিক পর্যায়ে
বিস-ারিত প্রশ্নমালার ভিত্তিতে জরীপকৃত ফলাফল বিশ্লেষণের
মাধ্যমে পোশাক শিল্প খাতে এমএফএ পরবর্তী সময়ে মহিলা শ্রমিকদের
অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কোটা উঠে
যাবার ফলে স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে এই খাতটিতে কি প্রভাব পড়েছে এবং
পড়তে পারে, এবং মহিলা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান
ও আয়ের ওপর কি প্রভাব পড়েছে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দেখা
গেছে, নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের আয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং
নারী শ্রমিকরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে কম মজুরী পায়।
প্রবন্ধটিতে দেখানো হয়েছে যে কোটা পরবর্তী সময়ে মহিলা শ্রমিকরা
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে তাদের কর্মসংস্থানের
ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে মহিলা শ্রমিকরা
কম দক্ষ বলে নিচু ক্যাটাগরির কাজগুলো করে থাকে। কিন্তু
পোশাক শিল্প খাতে নীট পোশাক রপ্তানির পরিমান বৃদ্ধি
পাবার প্রেক্ষিতে দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন বাড়বে যেহেতু নীট
পোশাক তৈরীর বিষয়টি প্রযুক্তি নির্ভর। সুতরাং পোশাক শিল্পে নারী
শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য অবিলম্বে তাদের
প্রশিক্ষণের ব্যস্থা করা উচিত।
বইটির চতুর্থ প্রবন্ধ পোশাক শিল্প শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী নিয়ে
লেখা হয়েছে। এখানে মূলত ন্যূনতম মজুরীর প্রয়োজনীয়তা ও এর
পরিমান নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের
বিভিন্ন উদ্যোগ, বিভিন্ন দেশে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের ন্যূনতম
মজুরীর পরিমান এবং ন্যূনতম মজুরী নির্ধারণের ফলে শিল্পটির ওপর
কি ধরণের চাপ পড়তে পারে তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। প্রবন্ধটিতে
সুপারিশ করা হয়েছে যে একটি আধুনিক, গতিশীল এবং আন্তর্জাতিকভাবে
প্রতিযোগিতামূলক পোশাক খাতের জন্য সঠিক মজুরী এবং উপযোগী কর্ম
পরিবেশ একান্ত আবশ্যক। ২০০৬ সালের
অক্টোবরে ঘোষিত নতুন ন্যূনতম মজুরীর কাঠামো সকল কারখানায়
সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকার,
মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদেও যৌথ মনিটরিং ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও মজুরীর
পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে পোশাক
শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও
নিরাপত্তা তথা কমপ্লায়েন্স বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বইটির পঞ্চম প্রবন্ধে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য
ও নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তুলনা করা
হয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে এই ক্ষেত্রে আমাদের দেশের অবস্থান।
আমাদের দেশে শ্রমিক নিরাপত্তার ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে নেয়া
আইনগুলো গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। তবে শ্রমিক নিরাপত্তা
সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক
শ্রমসংস্থার অনেক নীতিমালা সরকার এখনো
অনুস্বাক্ষর করেনি। প্রবন্ধটিতে সুপারিশ করা হয়েছে যে
মালিক-শ্রমিকদের মধ্যকার দূরত্ব কমানো এবং কাজের পরিবেশ ও
দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ঠ আইনের বাস্তবায়ন
এবং যথাযথ মনিটরিং ব্যবস'ার মাধ্যমে শিল্পটিকে বিশ্ব বাজারে
প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে টিকিয়ে রাখা
সম্ভব।
বইটির ষষ্ঠ অধ্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তথা
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাজার সুবিধা সংক্রান্ত
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে। যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ও কানাডার বাজারে স্বল্পোন্নত দেশগুলো শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা
পাচ্ছে, তাই স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুল লক্ষ্য হলো
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য শুল্কে প্রবেশাধিকার। ২০০৫ সালে
বিশ্ব বাণিজ্য সংস'ার হংকং মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে
যুক্তরাষ্ট্র ৯৭ শতাংশ পণ্যের শুল্ক মুক্ত ও কোটা মুক্ত বাজার
সুবিধা দিলেও তা সম্পুর্ণই অর্থহীন হবে যদি বাকী ৩ শতাংশ
পণ্যের মধ্যে বাংলাদেশ তথা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মূল রপ্তানি
পণ্যগুলো অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়।
প্রবন্ধটিতে বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে যে স্বল্পোন্নত
দেশগুলোকে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের
অভ্যন্তরীণ পোশাক উৎপাদনের ক্ষেত্রে
তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। তাই বাণিজ্যিকভাবে অর্থবহ বাজার
প্রবেশাধিকারের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের
শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে
সর্বসামপ্রতিক কালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উত্থাপিত
‘‘উন্নয়নের জন্য নতুন অংশীদারিত্ব বা
New Partnership for Development Act (NPDA) 2007”
বিলের প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে
শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার আদায়ের ব্যাপারে সকল পক্ষকে প্রয়োজনীয়
উদ্যোগ নেবার কথা বলা হয়েছে।
সপ্তম অধ্যায়ে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতকে বিশ্ব বাজারে
সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য মোট
১৯টি সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়েছে।
২০০৬ সালে সিপিডি পরিচালিত ১৯০টি কারখানা ও ৪৭০ জন শ্রমিক
জরীপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এখাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতা
সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে
কারখানার আকার বর্ধিতকরণ, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়ন ও নতুন
প্রযুক্তির জন্য নীতিগত সমর্থন, প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে
আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করা,
গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম শক্তিশালীকরন, শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা
বৃদ্ধিতে সহযোগিতা, মজুরী কাঠামোর বাস্তবায়ন.
উন্নত শ্রম পরিবেশ নিশ্চিত করা, পোশাক কারখানার স'ানান-র,
পশ্চাৎমুখী বস্ত্রখাত উন্নয়ন, চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন ইত্যাদি।
বইটির শেষে তিনটি সংযুক্তিতে বিভিন্ন সময়ে সিপিডি আয়োজিত নীতি
সংলাপের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন
করা হয়েছে। এই সংলাপগুলোর মূল বিষয় ছিলো শ্রমিক অসন্তোষের
প্রেক্ষিতে পোশাক শিল্পের অসি'রতা ও ন্যূনতম মজুরী, পোশাক
শিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদের অবস্থা
এবং পোশাক শিল্পে কর্মপরিবেশের উন্নয়ন। মূলত বর্তমান বইটিতে অন্তর্ভূক্ত
বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমেই
এই নীতি সংলাপগুলোর আলোচনা আবর্তিত হয়েছে। বিভিন্ন গবেষক, নীতি
নির্ধারক, পোশাক শিল্প শ্রমিক, মালিক, সাংবাদিক, এনজিও কর্মীসহ
বিভিন্ন পেশার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং
সুপারিশমালার ভিত্তিতে তৈরী করা হয়েছে এই প্রতিবেদনগুলো। আশা
করা যায় প্রবন্ধগুলোর মতোই নীতি সংলাপ প্রতিবেদনগুলো সমভাবে
পাঠকের চিন্তার খোরাক যোগাবে।
|
|