Research
Dialogues
Policy Advisories
Capacity Building
Macro Economic Analysis
Trade Policy Analysis
Agriculture and Rural Development
Environment and Ecosystems
Governance and Policy Reforms
Investment Promotion and Enterprise Development
Regional Co-operation
Population and Sustainable Development
Budget Analysis 2007
Previous Budget Analysis
Young Scholars Seminar Series (YSSS)
Internship at CPD
Training at CPD
 
 

একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের বিনির্মাণ
স্বাধীনতা পুরস্কার ২০০৮ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রফেসর রেহমান সোবহান কর্তৃক
প্রদত্ত বক্তৃতা

আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করছি, এবং একইসাথে এ পুরস্কারের মর্যাদার ভার বহনে আমার সামর্থ্যের অপ্রতুলতার কথাও ভাবছিআমাদের প্রজন্মের যাঁরা বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সাথে যুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁরা সত্যিই সৌভাগ্যবানসেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে একজন অতি সাধারণ মানুষও তাঁর নিজস্ব যোগ্যতা, সক্ষমতা ও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি বীরত্ব ও কৃতিত্বের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছিলেনএটা ছিল এমন এক ব্যতিক্রমী সময় যখন একজন কৃষক হয়ে ওঠেন যোদ্ধা, আমলা হয়ে যান সেনানি, মেজর পরিণত হন জেনারেলে এবং একজন গৃহবধুও হয়ে যান মুক্তিসংগ্রামের অকুতভয় সহযোদ্ধা যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাতে তুলে নেন অস্ত্রএটা ছিল এমন এক সময় যখন আমার মতো শিক্ষকরাও হয়ে যান কুটনৈতিক - যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে তাঁদের শাণিত যুক্তি উপস্থাপন করেন এমন সব মনুষের সামনে যারা আমাদের অস্তিত্ত্ব সম্পর্কেই সচেতন ছিল নাআমরা সে সময়ে আমাদের চেতনার স্ফুরণে উজ্জীবিত ও উদ্বুদ্ধ ছিলামআমরা আমাদের সামান্য অবদানের মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে আবিস্কার করেছিলাম, যার সফল সমাপ্তি ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের মাধ্যমেআমাদের মধ্যে যাঁরা সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের সৌভাগ্যবান সাক্ষী - তাঁদের জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে দেখতে পাওয়া সব কিছুর ঊর্দ্ধে এক ধরণের পূর্ণতার অনুভূতি যা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিনআমি যে পুরস্কার আজ গ্রহণ করছি তা শুধু আমার পক্ষ থেকে নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আমার প্রজন্মের সেসব মানুষগুলোর পক্ষে যাঁদেরকে ইতিহাস বেছে নিয়েছিল একটি মহান কর্মকাণ্ডের অংশগ্রহণকারী হিসেবে

 

আমার বিশ্বাস বিশেষ কিছু করে ফেলেছি এমন মনে করে আমাদের কারোই আত্মতৃপ্তি অনুভব করার কোন কারণ নেইআমার ক্ষেত্রে পুরস্কারটি গবেষণা ও শিক্ষকতায় আমার অবদানের সাথে জড়িতআমার প্রথম দিককার গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্যের ভিত্তি অন্বেষণ, যা পরবর্তীতে নীতি বিষয়ক এবং রাজনৈতিক-অর্থনীতি সংক্রান- ইস্যুসমূহে বিস্তৃতি লাভ করে যেগুলো ক্রমান্বয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পটভূমি প্রণয়নে সাহায্য করেছিলএকটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমার ধ্যান-ধারণা ও বিশ্বাস আমার গবেষণাকর্মের মধ্য দিয়ে যৌক্তিক রূপ পেয়েছিলশিক্ষক ও গবেষক হিসেবে আমার কাজের ধরণ এটাই নিশ্চিত করেছিল যে, এ দুই সত্তা একটি কাজেরই দুটি পৃথক অংশ মাত্রএকজন শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের প্রাপ্ত সম্মানের কারণে যেমন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হন, তেমনি একইভাবে একজন শিক্ষকের প্রাপ্ত সম্মানের সঙ্গেও তাঁর ছাত্রদের অংশীদারিত্ব থাকেগবেষক হিসেবে আমার অবদান আমার সহযোগী, গবেষণা সহকারী, পেশাদার সহকর্মী এবং বন্ধুদের অব্যাহত সমর্থনে ক্রমান্বয়ে ঋদ্ধ হয়েছেতাঁদের চিন্তা, ধ্যান-ধারণা এবং শ্রম আমার গবেষণাকর্মে বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেপ্রথাবিরোধী চিন্তা ও জীবনবোধের কারণে আমার পরিবারকে প্রায়শই উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছেআমাকে সারা জীবন তাঁরা যে অসাধারণ সমর্থন দিয়ে চলেছেন সেজন্য আমি তাঁদেরকে এ সুযোগে ধন্যবাদ জানাতে চাইযে পুরস্কার আজ আমি গ্রহণ করছি তার অংশীদার হিসেবে আমার পরিবার ও সহকর্মী, যারা আমার কাজের সাথে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গঠন প্রক্রিয়ায় আমার সাথে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককেই যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়া কর্তব্য মনে করছিযেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে আমি নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলাম - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিজ এবং বিগত ১৩ বছর ধরে আমার পরিবার হয়ে ওঠা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) সহ অন্যান্য সবার অবদানের কথা আজ আমি বিনম্রচিত্তে স্মরন করছি

 

এ সম্মান যা আমি তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই যাঁদের অবদানের জন্য আজ আমি ওসমানী মিলনায়তনের এ মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছি, তা একই সাথে দেয়া হচ্ছে এমন সব মহান ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানকে যাঁদের অবদান আমার চেয়ে অনেক বেশি এবং শ্রদ্ধা জানাতে চাই যাঁরা ইতোমধ্যে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের গর্বিত অংশমুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে প্রফেসর সামসুজ্জোহা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে বিরল বীরত্বের সাথে রুখে দাঁড়িয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তায় শহীদ হনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার প্রিয় সহকর্মী প্রফেসর গোবিন্দ চন্দ্র দেব, যিনি অহিংসার নীতিতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তিনি ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হন, ঠিক সে মুহূর্তে যখন জগন্নাথ হলের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর চলছিল এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞইয়াহিয়া ও তার সহচরদের নির্দেশে যে গণহত্যার শিকার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ হয়েছিল এটা ছিল তারই পূর্বাভাষমুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিককার শহীদদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ রাইফেল্‌স-এর অকুতভয় সেসব যোদ্ধারা যাঁরা পূর্বে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্‌স এর হেডকোয়ার্টার পিলখানায় বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে তাঁদের রক্ত ঝরিয়েছিলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নগ্ন আগ্রাসনকে প্রতিহত করেছিলেন আর পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিবাহিনীর অংশ হিসেবে দুরন্ত সাহসিকতার সাথে মুক্তিসংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন

 

জানা-অজানা অসংখ্য বীর ও শহীদদের রক্ত, ঘাম আর অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীন বাংলাদেশে আজ আমরা বাস করছিপরম সম্মানীয় এ বীর ও শহীদরা আমাদেরকে পরিশোধের অতীত এক আজন্ম ঋণে আবদ্ধ করে রেখেছেনবাংলাদেশের ৩৭ বছরের অস্তিত্বে তাঁদের এ আত্মত্যাগের কোন তুলনা নেইঅন্যদিকে ইতিহাসের জঘন্যতম এ গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত না করতে পারার ব্যর্থতা আমাদের ইতিহাসের ওপর অশুভ প্রভাব রেখে চলেছেসেই ব্যর্থতার মূল্য আমাদের দিতে হয়েছে জাতির জনক, তাঁর পরিবার, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আর পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের অনেক বীরদের জীবনের বিনিময়েএসব ঘটনা আমাদের সুমহান ইতিহাসকে করেছে বিকৃত, বিচ্যুত করেছে আমাদের রাষ্ট্রের মুলনীতি থেকে এবং সমকালীন রাজনীতিকে করেছে সংক্রামিত ও বিভাজিত

 

আমরা কেবল আমাদের ইতিহাসের প্রতিই দায়বদ্ধ নই, আমরা আমাদের জীবিতদের প্রতিও দায়বদ্ধএকথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল এমন এক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেখানে ছিল একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায় বিচারনির্ভর ও সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নএমন এক সমাজ যেখানে সব মত ও বিশ্বাসের মানুষ একে অপরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে বাস করতে পারবেআমরা যারা সেই সংগ্রামের সাথে এক সময় যুক্ত ছিলাম তাঁরা যুক্তি দেখিয়েছিলাম যে পাকিস্তানী নীতি নির্ধারকদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে একই রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে দুই অর্থনীতি বাস্তবতা অবস্থান করছেএকটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরেও আজ আমাদের জাতি-রাষ্ট্রের একক অর্থনীতি দুই পৃথক সমাজে বিভাজিতএ বিভাজনের একদিকে আছে প্রথম বিশ্বের নাগরিকদের আদলে নানা সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে ওঠা অফুরন্ত সুযোগ-সুবিধাভোগী ও বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী ও বিভাজনের অন্যদিকে রয়েছে বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রান্তিক মানুষরা, বেঁচে থাকার জন্য জীবিকা নির্বাহের ন্যুনতম সংস্থানই যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য

 

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অনেক অর্জন রয়েছেআমাদের প্রান্তিক কৃষকেরা খাদ্য উৎপাদন তিনগুণ করেছেনপোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা, শ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি নির্ভর একটি শিল্পের অননুকরণীয় বিকাশ ঘটিয়েছেনক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে আমরা একটি বিপ্লবের জন্ম দিয়েছি এবং প্রমাণ করেছি আমাদের সম্পদবঞ্চিত জনগণ ঋণের পূর্ণ ব্যবহার করতে সক্ষম এবং একইসাথে তাঁরা উৎপাদনক্ষমআমরা মানব উন্নয়ন সূচকের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিকিন্তু একথাও ঠিক যে একইসাথে এসব সার্থকতা আমাদের এটাও মনে করিয়ে দেয় যে আরো অনেক কিছুই আমরা অর্জন করতে পারতামমনে করিয়ে দেয় এ অর্জিত সফলতাগুলো আমরা আরো কত সমতা ও ন্যায়বিচারের সাথে বণ্টন করতে পারতাম

 

আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস এশিয়ার মধ্যে গণতন্ত্রের একটি মডেল হিসেবে আবির্ভূত হবার একটি সুযোগ দিয়েছিল, যেখানে দ্বি-দল ব্যবস্থা দিতে পারত স্তিতিশীলতা আর অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ হতে পারত ইতিহাসের স্মৃতিতুলনামূলকভাবে একটি সমতাভিত্তিক সমাজের যে উত্তরাধিকার আমরা পেয়েছিলাম তা আমাদের অধিকাংশ বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে পারত; সম্ভব করতে পারত একটি সমতাভিত্তিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠনশুধু ধর্মের নামে গণহত্যার যে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে তা বাংলাদেশে একটি শ্রেণীবৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব আমাদের শেখাতে পারতআমার মনে করিয়ে দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই যে এরকম একটি সমাজের স্বপ্ন থেকে আজ আমরা অনেক দূরে সরে গেছি, যে স্বপ্নের জন্য এদেশের মানুষ একদিন তাঁদের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছিল

 

আজ যখন আমরা আবার একটি রাজনৈতিক ক্রানি-কালের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি তখন এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ  যে আমরা যেন আমাদের সে বিশ্বাসের ওপর আস্থা রাখি যে বিশ্বাস আমাদেরকে মুক্তিসংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছিল, প্রেরণা দিয়েছিলতাই এটা অত্যন্ত জরুরী যে কোন কালক্ষেপন না করে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করি এবং এ কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের রোড-ম্যাপ সম্বন্ধে সকল শংকা দূর করিআমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার এমন ভাবে করতে হবে যাতে মুক্তিযুদ্ধের যেসব লক্ষ্যসমূহ আমরা ক্রমাগত উপেক্ষা করে আসছিলাম তা প্রতিষ্ঠা করতে যেন পুনরায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারিসেসব লক্ষ্যের মধ্যে ছিল আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃতঅর্থে শক্তিশালী করা, যার ভিত্তি হবে সাধারণ জনগণ যারা সে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রক্ষা করার মধ্যে তাদের সরাসরি স্বার্থ নিহিত আছে বলে বিশ্বাস করবেআমাদেরকে এমন এক বাংলাদেশের রুপকল্পের ধারণা দিতে হবে যে বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্র্যমুক্তযেখানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে এবং তার ফলাফল সরাসরি ভোগ করতে সক্ষম হবেআমাদের নিজেদের কাছে অঙ্গীকার হবে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যেখানে টাকা ও পেশীশক্তি হবে না ক্ষমতার উৎস, বরং যেখানে সাধারণ জনগণ, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু এবং নারীরা নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে কার্যকর প্রতিনিধিত্বের ব্যাপক সুযোগ পাবেগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ আবারও অনুপ্রাণিত হবে, যেমনটা তারা হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামকালীন দিনগুলিতে, যদি তারা বিশ্বাস করতে পারে যে এ রকম একটি ব্যবস্থা সত্যিকারার্থেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অংশীদারীত্বমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম

 

 

রেহমান সোবহান

২৫ মার্চ ২০০৮